পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের হোক্কাইডোতে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) জার্মান ভূ-বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা (জিএফজেড) জানিয়েছে ভোরে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।
জিএফজেড জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের ৪৬ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হয়েছিল। গত মার্চেও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল হোককাইদো। রিখটার স্কেলে যা ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল বলে জানিয়েছিল দেশটির জাতীয় ভূকম্পন সংস্থা। ওই ভূমিকম্পে হোককাইদো ছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলগুলো কেঁপেছিল।
জাপানে ভূমিকম্প খুবই সাধারণ ঘটনা, এটা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। পৃথিবীর যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় জাপানে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই দেশটিতে বেশি ভূমিকম্প হয়। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারের মতো ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। রিং অব ফায়ারের অর্থ হল আগুনের গোলা। রিং অব ফায়ার এমন একটি কাল্পনিক বেল্ট যা ঘোরার খুরের মত প্রধানত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে রেখেছে। এই রিং অব ফায়ারে যেইসব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পপ্রবণ। এই রিং অব ফায়ারই ৯০ শতাংশ ভূমিকম্পের কারণ।
৪০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রিং অব ফায়ার অঞ্চলে ৪৫২ টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে যা পৃথিবী পৃষ্টের মোট আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ। এশিয়ার জাপান, পলিনেশিয়ার টোঙ্গো, দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। তাই এইসব অঞ্চলেই বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে।